সবকিছু আগের মত করতে রিসেট বাটন চাপুন

রিসেট করুন

স্লুইজ গেটের মরণ ফাঁদে মরে যাচ্ছে নদী মার্তৃক ঝালকাঠির ২৯৩ টি খাল ॥ আসন্ন শুকনো মৌশুমে গ্রামীন নৌ-যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে॥ অলস পড়ে আছে কোটি টাকার প্রকল্প

‘ধান-নদী-খাল’ এই তিন-এ বরিশাল। বরিশালের সবচে নিকটবর্তী জেলার নাম ঝালকাঠি। অসংখ্য খাল নদী মার্তৃক এ জেলাকে চারদিক থেকে জালের মত জড়িয়ে রেখেছে। কিন্তু স্লুইজ গেটের মরন ফাঁদে পড়ে মরে যাচ্ছে ঝালকাঠি জেলার ২৯৩টি খাল। নৌ-পরিবহনে সৃষ্টি হচ্ছে অচলাবস্থা। শুকনো মৌসুমে বন্ধ হয়ে যায় নৌ-যোগাযোগ। ফলে হারাতে বসেছে গ্রামের মানুষের প্রাচীন এ নৌ-যোগাযোগ। বিফল হতে চলছে কোটি টাকার সেচ প্রকল্প।
১৯৭৫ ও ’৭৬ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় কৃষি জমিতে সেচের সুবিধার জন্য ঝালকাঠি জেলার তিনটি ও পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলায় খালের পাড়ে মোট ৩৬টি পাম্প স্থাপন করা হয়। পানি আটকে রাখার জন্য ঝালকাঠির ২৯৩ ও কাউখালীর ১১টি খাল মিলিয়ে মোট ৩০৪টি খালে স্থাপন করা হয় স্লুইজ গেট। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১১২টি খাল, রাজাপুরে ৭৬টি, নলছিটিতে ১০৫টি এবং পিরোজপুর জেলার কাউখালীর ১১টি খাল ব্যবহার করা হয়। উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন পাম্ম দিয়ে জমিতে নালার মাধ্যমে শুকোন মৌসুমে কৃষি কাজে পানি সরবরাহ করাই ছিল এর প্রথম পর্যায়ের উদ্দেশ্য। কিন্তু ব্যায় বহুল ও প্রযুক্তিগত নানা সমস্যায় এ পদ্ধতি ভেস্তে যায়। তাই দীর্ঘদিন ধরে খালে নির্মিত স্লুইজগেট ও পাম্প হাউজ বেকার বসে থাকে। কোন কোন পাম্প হাউজ স্থানীয় প্রভাবশালীদের আড্ডাখানাও পরিনত হয়। বখাটেদের আড্ডাখানা হিসেবে ব্যবহার করতে না দেয়ার কারনে রাজাপুর উপজেলায় এক পাম্প অপারেটরকে খুন হতে হয়। খালের শাখা-প্রশাখায় বসানো হয়েছে স্লইজগেটগুলো। বন্যার সময় গেট আটকে পানি ঢুকতে বাধা দেওয়া এবং শুষ্ক মৌসুমে পাম্প দিয়ে গেটের অভ্যন্তরে পানি ঢুকিয়ে তা সেকেন্ডারি পাম্প দিয়ে ফসলের ক্ষেতে দেওয়াই ছিল স্লুৃইসগেট এবং পাম্প ষ্টেশন বসানোর উদ্দেশ্য। তবে উদ্দেশ্য কাগজে-কলমেই থেকে যায়। বর্তমানে স্লুইজগেট গুলোর মালামাল বেহাত হয়ে গেছে। ষ্টিলের গেট গুলো উঠিয়ে নিয়ে পার্শ্ববর্তী লোকজন নিজস্ব কাজে ব্যবহার করছে। পাম্প ষ্টেশনে নিয়োজিত সরকারী বেতনভুক্ত লোক থাকলেও তাদের কোন কাজই নেই। তাই প্রায় সব স্লুইজগেট পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। পানি আটকানোর ষ্টিল প্লে¬ট গুলো লোকজন খুলে নিয়ে গেছে অনেক আগেই। গেটগুলো যখন স্থাপন করা হয় সেই সময় কিছু কিছু জায়গায় এর ব্যবহার হলেও গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এগুলো শুধু মানুষের সমস্যা সৃষ্টি করেই যাচ্ছে। মূলত এ অঞ্চলের লোকজন এর থেকে সুবিধা পেয়েছে যতটা তার চেয়ে বেশি ক্ষতিগস্ত হচ্ছে। নদীর সঙ্গে ছোট খালের সংযোগস্থলে স্থাপিত স্লইজগেট গুলোর সাথে স্থাপন করা হয়েছে পাম্প ষ্টেশনগুলো। খালের যে স্থানে স্লুইসগেট বসানো, সে জায়গা স্বাভাবিকভাবেই সংকুচিত। এতে খালের বাকি অংশে পানির প্রবাহ কম থাকে। যার ফলে খালগুলো ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে। অন্যদিকে এসব অঞ্চলের মাঝিদের অভিযোগ, খালের মাঝে স্থাপিত গেটগুলোর ভেতর দিয়ে বর্ষা কালেই বড় নৌকা-ট্রলার ঢোকানে অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর শুকনো মৌসুমে খালগুলো যায় শুকিয়ে হারাতে বসেছে গ্রামীন নৌ-যোগাযোগ।
ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা মোঃ নাসির জানিয়েছেন, ১৯৭৫/’৭৬ এ ভিইপি নামে প্রকল্পের কাজ শুরা হয। প্রকল্পের উদ্দেশ্য সাধন যথাযথ না হওয়া ১৯৯৪/৯৫ সালে সেচের জন্য অভিকর্ষ পদ্ধতি চালু হয়। বর্তমানে অভিকর্ষ নামের এ পদ্ধতিতে সেচ প্রকল্পে কৃষক সুবিধা পাচ্ছে বলে তিনি দাবী করে জানান, এ পদ্ধতিতে পূর্বের চেয়ে স্লুইজগেট ৩ ফুট উচু করা হয়েছে। আধূনীক পাম্প দিয়ে শুকনো মৌসুমে মাত্র ৩০০টাকা বিদ্যুৎ খরচে একজন কৃষক প্রতি একর জমিতে পানি সেচ দিতে পারবে। যা জন্য পূর্বে খরচ হতো ১২০০ টাকা।
তবে গত বছর শুকনো মেসৈুমে বলিশার বিভাগে মাত্র ১৯টি পাম্প হাউজে এ পদ্ধতিতে স্লুইজগেটে পানি আটকে কৃষি জমিতে সেচ প্রকল্প চলে। আসন্ন শুকনো মৌসুমে এর চাহিদা বাড়বে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড মনে করছে। সেই সাথে নব্যতা হারিয়ে খাল গুলো মরে যাওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, কাবিখার আওতায় ৭৫ কিঃমিঃ খাল খননের জন্য মন্ত্রনালয় স্কিম পাঠানো হয়েছে।

লেখক:
পলাশ রায়
গণমাধ্যমকর্মী, ঝালকাঠি।

ফেসবুকের মন্তব্য:

3 বিস্তারিত মন্তব্য

  1. [...] ওয়েবের “স্লুইজ গেটের মরণ ফাঁদে মরে যাচ্ছে নদী …” শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়- [...]

  2. Shohag says:

    I am from japan. Please give your contrack number.

  3. editor says:

    অনুগ্রহ করে info.jhalakathiweb[at]gmail.com -এ আপনার ব্যাক্তিগত মেইল ঠিকানা থেকে মেইল করুন।

মন্তব্য করুন