এক কোটিপতির সখ || ঝালকাঠী সুগন্ধা নদী দখল করে প্রমোদ ভবন
বর্তমান সরকার যখন নদী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করছে এবং উচ্চ আদালত এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন, ঠিক তখন ঝালকাঠিতে ঘটছে এর উল্টো ঘটনা। ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী দখল করে নলছিটির বহরমপুর মৌজায় প্রকাশ্যেই নির্মান করেছেন ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত নলছিটির এক কোটিপতির বিলাস বহুল প্রমোদ ভবন। বন্দোবস্তের মাধ্যমে ক্রয়সূত্রে এ জমির মালিকানা দাবি করা হয়। প্রায় ৫০ শতাংশ জমিজুড়ে এ বাংলো বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রশাসনের চোখের সামনে এভাবে নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণে হতবাক এলাকাবাসী। বাংলোর মালিক বলছেন, ঢাকা থেকে আগত ভিভিআইপিদের এখানে এনে রসনাবিলাসের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন কাজ বাগিয়ে নিতেই এ বাংলো বাড়ি হচ্ছে । স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু মহলের সহায়তায় প্রথমে এ জমি নিলাম ক্রয়সূত্রে মালিকানা বন্দোবস্ত দেখানো হয়। পরে কোটিপতি আলমগীর কাজী রাতারাতি ওই খাস সম্পত্তির মালিক হয়ে যান। অথচ ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রণালয়ের সার্কুলার অনুযায়ী দিয়ারা সেটেলমেন্ট না হওয়া পর্যন্ত নদী পয়স্তি এবং নতুন জেগে ওঠা চরের জমি বন্দোবস্ত দেওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এ নির্দেশনা অমান্যকারী দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে সার্কুলারে। এছাড়াও যে নদী জনসাধারণের ব্যবহার্য সেই নদীর জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার কোনো বিধান নেই বলেও ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন আগে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে চাকরিরত থাকা কালে আবু কেরানির মাধ্যমে এ জমি দখলের নীলনকশা এবং পরিকল্পনা করা হয়। এলাকাবাসী জানান, তিনি দুর্নীতির নেপথ্য নায়ক হলেও এর আর্থিক রসদ জোগান দেন বাংলো বাড়ির রূপকার। আবু কেরানি কৌশলে প্রথমে এ জমি বন্দোবস্ত দেখিয়ে খাজনা না দিয়ে নিলামে ওঠানোর প্রক্রিয়া করেন। এরপর তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের নামে এ জমি নিলাম ক্রয়সূত্রে মালিকানা দেখান। তখন আবু কেরানি চাকরিরত থাকায় কাগজপত্রে স্বামীর নাম উলেল্গখ না করে স্ত্রী আনোয়ারার পিতার নাম উলেল্গখ করেন। এভাবে অবৈধ মালিকানা দাঁড় করিয়ে একটি ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের সহায়তায় সুগন্ধা নদীর জমিতে এ অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়।
এ ব্যাপারে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম কবির বলেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগের তদন্ত করেছেন ঝালকাঠি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং নলছিটি ভূমি কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে তারাই ভালো বলতে পারবেন। নলছিটির ভূমি কর্মকর্তা আজাদ জাহান বলেন, আমার আগের কর্মকর্তা এ ঘটনার তদন্ত করেছেন। অবৈধ বন্দোবস্ত দেখিয়ে নদী দখল করে প্রকাশ্যে এভাবে বাড়ি নির্মাণে উপজেলা প্রশাসনের কিছু করার আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি বন্দোবস্ত অবৈধ হয়, তাহলে অবশ্যই এ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হবে। এ ব্যাপারে আমি নথিপত্র না দেখে কিছুই বলতে পারব না। রেকর্ডীয় এ সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে বাড়ির মালিক আলমগীর হোসেন জানান, সরকার যাকে এ সম্পত্তির মালিকানা দিয়েছে, আমি তার কাছ থেকে ক্রয় সূত্রে এ সম্পত্তির মালিক হয়েছি। সরকার কাকে মালিকানা দিয়েছে এবং তিনি কার কাছ থেকে এ জমি ক্রয় করেছেন জানতে চাইলে আলমগীর হোসেন বলেন, তার জানা নেই। পরিবার নিয়ে এখানে থাকবেন কি-না জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি এ বাড়িতে ঢাকা থেকে ভিভিআইপিদের এনে রসনাবিলাস করাব। বিনিময়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ বাগিয়ে নেব। এ প্রসঙ্গে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বাড়িটির পাশেই একটি মাদ্রাসা করার পরিকল্পনা আছে। আপনাদের সহযোগিতা চাই।
তথ্যসুত্রঃ আজমীর হোসেন তালুকদার, গণমাধ্যমকর্মী, ঝালকাঠি।