সবকিছু আগের মত করতে রিসেট বাটন চাপুন

রিসেট করুন

বরিশালের জীবনানন্দ এবং ঝালকাঠির ধানসিঁড়ি

‘হায় চিল সোনালি ডানায় চিল
এই ভিজে মেঘের দুপুরে তুমি আর কেদোনাকো উড়ে উড়ে
ধানসিড়ির নদীটির পাশে।’

রূপসী বাংলায় প্রকৃতির নৈসর্গিক কবি জীবনানন্দ দাশের কিছুটা এই পরিচিতি কবিতাটির মতই তার স্মৃতি বিজরিত ঝালকাঠির ধানসিড়ি নদীটিও আজ হারাতে বসেছে। এক কালের জাহাজ চলা নদীটি আজ নাব্যতা হারিয়ে যেন স্মৃতি হতে চলছে। মৃত্যুর পরেও কবি যে নদীটির তীরে ফিরে আসতে চেয়েছেন (আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায় – হয়তো হয়তো মানুয় নয় শংখচিল শালিকের বেশে…) সে নদীটি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ঐতিহ্য হারিয়ে আজ স্মৃতি হওয়ার পথে।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের সুগন্ধা, বিশখালি, জঙ্গালিয়া, সন্ধ্যা আর সুয়েজ খাল গাবখন চ্যানেল ছুঁয়ে ধানসিঁড়ি প্রবাহিত। এককালে নদীটির প্রশস্ততা এমন ছিল যে, তৎকালীন সময়ে এক ডোঙা ধাঁন সিদ্ধের জন্য সে সময় টুকো লাগতো নদী পাড় হতেও ততক্ষন সময় লাগতো। তাই সে সময় নদীটিকে ধান সিদ্ধের বাঁকও বলা হত। তখন এ নদীতে সুপারির হাট বসত। নদী পথেই মাইলের পর মাইল ছেঁয়ে যেত হাজার হাজার সুপারির নৌকায়। দক্ষিনাঞ্চলের সুপারি ব্যবসার পাইকাররা ধানসিঁড়ি নদীতে হাট করতো আসতো । তখন ভেঁপু (স্টিমারের সাইরেন) বাঁজিয়ে বড় বড় সব স্টিমার যেতো খুলনা সহ দক্ষিন অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে। প্রকৃতির নৈসর্গে ভরা নদীটির প্রেমে পড়েন রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ। আর সে কাহিনী টানতে গিয়ে কবির কিছুটা পারিবারিক ইতিহাস তুলে ধরতে হয়।

বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল শিক্ষক ও “ব্র্ক্ষবাদী” পত্রিকার সম্পাদক এবং প্রবন্ধকার সত্যানন্দ দাশ ও মহিলা কবি কুসুমকুমারী দাশের পুত্র জীবনানন্দ, বাল্য নাম মিলু । ১৮৯৯ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারী বরিশাল জেলা শহরে জম্মগ্রহন করেন। ধারনা করা হয় জীবনানন্দ দাশের মা মহিলা কবি কুসুমকুমারী দাশ জন্মে ছিলেন ঝালকাঠি জেলার ধানসিঁড়ি নদীর নিকটাবর্তী বর্তমান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চরবাটরাকান্দা গ্রামে। তখনকার একমাত্র নদী পথ ধানসিঁড়ি হয়েই বার বার কবি ঝালকাঠি আসেন তার মামা বাড়িতে। আর সে সুবাদেই ধানসিঁড়ি নদীটির রূপ ছুঁয়ে যায় তার কবিতায় । কবির বিখ্যাত ও সুপরিচিত কবিতা “আবার আসিব ফিরে” ছাড়াও ধানসিঁড়ির রূপলাবন্য আর মানবজীবনের বিশাদ অথবা চিরসত্যা মৃত্যু তুলে ধরেছেন এভাবেই:

‘একদিন জলসিঁড়ি নদীটর পাড়ে এই বাংলার মাঠে
বিশীর্ণ বটের নীচে শুয়ে রব ; পশমের মতো লাল ফল
ঝড়িবে বিজন ঘাসে
বাঁকা চাঁদ জেগে রবে-
নদীটির জল বাঙ্গালী মেয়ের মত বিশালাক্ষী মন্দিরে ধূসর কপাটে’

অথবা হায় চিল কবিতায়:

‘হায় চিল, সোনালী ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে
তুমি আর কেঁদোনাকো উড়ে উড়ে ধানসিড়ি নদীটির পাশে!
তোমার কান্নার সুরে বেতের ফলের মতো তার ম্লান চোখ মনে আসে।
পৃথিবীর রাঙ্গা রাজকন্যাদের মতো সে যে চলে গেছে রূপ নিয়ে দূরে;
আবার তাহারে কেন ডেকে আনো?
কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!’

বাংলা ১৪০৭ সালে কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ সরকার তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয় কবি জীবনানন্দ স্মরণ সংখ্যা। এ সংখ্যার আলোকে কবির সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি এরকম-

বাংলা ১৩০৫ সনের ৬ ফাগুন ( ফেব্রুয়ারি’১৮৯৯): স্নাতক স্কুল শিক্ষক ও ব্রহ্মবাদী’পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক এবং প্রবন্ধকার সত্যানন্দ দাশ ও মহিলা কবি কুসুমকুমারী দাশের পুত্র জীবনানন্দ দাশ (ডাক নাম মিলু) বরিশাল জেলা শহরে জন্মগ্রহন করেন।

১৩১৪ পৌষ (১৯০৮ জানুয়ারি): বরিশালের ব্রজমোহন স্কুলের পঞ্চম শ্রেনীতে ভর্তি হন তিনি।

বাংলা ১৩১৬-১৩২১সন: প্রধান শিক্ষক জগদীশ মুখোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সান্নিধ্য লাভ জীবনানন্দের জীবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করে। বরিশাল শহরের কীর্তনখোলা নদীর ধারে, আশপাশের গ্রামে, খেতে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতেন তিনি। ব্যক্তিগত সংগ্রহের জন্য পাঠ্যপুস্তক ব্যতীত অন্য বই ক্রয় করতে শুরু করেন জীবনানন্দ। স্কুল জীবনে নিজের লেখা কিছু কবিতা রবীন্দ্রনাথকে পাঠালে প্রশংসা ও আপত্তি মেলানো জবাব পান জীবনানন্দ।

১৮ চৈত্র ১৩২১: জীবনানন্দের একমাত্র বোন সুচরিতার জন্ম হয়। যার ডাক নাম রাখা হয় খুকু।

বাংলা ১৩২২: বরিশাল ব্রজমোহন বিদ্যালয় থেকে জীবনানন্দ প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাশ করেন। এরপর বরিশাল ব্রজজমোহন কলেজে আইএ ক্লাসে ভর্তি হলেও পরীক্ষা দেওয়ার বয়সকাল পূর্ণ না হওয়ায় এক বছর পর তাকে পরীক্ষা দিতে হয়।

বাংলা ১৩২৪: বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে প্রখম বিভাগে আইএ পাশ করে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। আইএতে তার বিষয় ছিল ইংরেজি, বাংলা ও রসায়ন। অক্সফোর্ড মিশন ছাত্রাবাসে আবাসিক ছাত্র হিসাবে বসবাস করেন তিনি।

বাংলা ১৩২৬: মনোমহোন চক্রবর্তী সম্পাদিত ব্রহ্মবাদী’ পত্রিকায় ‘বর্ষ আবাহন’ নামে প্রথম মুদ্রীত কবিতার মাধ্যমে সহিত্যক্ষেত্রে প্রবেশ করেন জীবনানন্দ। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে থেকে দ্বিতীয় বিভাগে ইংরেজি অনার্সসহ বি.এ. পাশ করেন। ভর্তি হন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.এ (ইংরেজি) ও আইন বিভাগে।

বাংলা ১৩২৮: এম.এ পরীক্ষার কিছুদিন আগে ‘ব্যাসিলারি ডিসেন্ট্রি’ রোগে আক্রান্ত হয়ে পরীক্ষা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে পিতার অনুরোধে পরীক্ষা দিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেনীতে এম.এ (ইংরেজি) পাশ করেন। ছেড়ে দেন আইন পড়া । কলকাতার সিটি কলেজে ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে ‘টিউটর’ পদে কর্মজীবন শুরু করেন ইংরেজি ১৯২২ সালে।

বাংলা ১৩২৯: সিটি কলেজে কর্মরত অবস্থায় হ্যারিসন রোড এর (বর্তমান নাম মহত্মা গান্ধী রোড) প্রেসিডেন্সি বোর্ডিংয়ে বসবাস শুরু করেন।

১৩৩২ শ্রাবণ: দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের মহাপ্রয়াণে বেদনাহত জীবনানন্দের কবিতা ‘দেশবন্ধু প্রয়াণে’ বঙ্গবানী পত্রিকার শ্রাবণ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

১৩৩৪ শ্রাবণ: ঢাকা ৪৭ পুরনো পল্টন থেকে বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত সম্পাদিত হাতে লেখা প্রগতি পত্রিকার ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের আষাঢ় থেকে মুদ্রিত আকারে প্রকাশিত হলে প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যা (শ্রাবণ,১৩৩৪) প্রগতি পত্রিকায় শ্রী জীবনানন্দ দাশগুপ্ত নামে তার “খুশ-রোজী” কবিতাটি প্রকাশিত হয়। আশ্বিন মাসে জীবনানন্দ’র প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরা পালক’ প্রকাশিত হয়। এ সময় থেকেই জীবননন্দ দাশগুপ্ত ছেড়ে জীবনানন্দ দাশ হয়ে যান।

১৩৩৫ শ্রাবনঃ সিটি কলেজের চাকরি থেকে জীবনানন্দ বরখাস্ত হন। এই সম্বন্ধে নানা মতামত থাকলেও আসল কারণ হল, রামমোহন রায় ছাত্রাবাসের একদল ছাত্রের স্বরস্বতী পুজাকে কেন্দ্র করে গোলমাল দেখা দিলে ছাত্রসংখ্যা কমে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিলে এই কলেজের সবচেয়ে কনিষ্ঠ অধ্যাপক হওয়ার সুবাদে জীবনানন্দ চাকরী থেকে বরখাস্ত হন।

১৩৩৬ শ্রাবন: প্রায় এক বছর বেকার অবস্থায় থাকার পর বাংলাদেশের সদ্য প্রতিষ্ঠিত বাগেরহাট প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজে যোগদান করেন। অগ্রহায়নে কলকাতায় ফিরে প্রেসিডেন্সি বোডিংয়ে বসবাস করতে শুরু করেন এবং গৃহশিক্ষকতার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকেন। পৌষে (ডিসেম্বর ২৯) পুরনো দিল্লী থেকে এক শুস্ক অনুর্বর ‘কলাপাহাড়’ এলাকায় অবস্থিত রামযশ কলেজে ইংরেজি বিভাগে যুক্ত হন।

১৩৩৭ বৈশাখঃ ছুটি নিয়ে রামযশ কলেজ থেকে বরিশালে আসেন। এ বছরের ২৬ পৌষ (মে ৯) খুলনা জেলার সেনহাটির রোহিনী কুমার গুপ্ত ও সরযুবালার দ্বিত্বীয়া কন্যা শ্রীমতি লাবন্যের সাথে জীবনানন্দ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৯৩৮ ফাল্গুল ৩ (ফেব্রুয়ারী ১৫, ১৯৩১): রবিবার তাদের এক কন্যা সন্তনের জম্ম হয়। নাম রাখা হয় মঞ্জুশ্রী (ডাক নাম মঞ্জু)।

১৩৪৩ অগ্রাহায়ন ১৩(নভেম্বর ২৯, ১৯৬৩): এক মাত্র পুত্র সমরানন্দ (ডাক নাম রঞ্জু) বরিশালের বাড়িতে জম্ম গ্রহন করেন। কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ধুসর পান্ডুলিপি’।

১৩৪৮ শ্রাবন: কলকাতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাইশে শ্রাবন প্রায়ত হলে বরিশাল ছাত্রাবাসে উচুঁ ক্লাসের কয়েকজন ছাত্রের উদ্যেগে আয়োজিত রবীন্দ্র স্মরণ সভায় রবীন্দ্রনাথের প্রতি জীবনানন্দ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

১৩৪৯ অগ্রহায়ন ৫ (নভেম্বর ২২, ১৯৪২): বরিশালের বাড়িতে সেদিন রোববার পিতা সত্যানন্দ দাশের আশি বছর বয়সের জীবনাবসান হয়। এ বছরের পৌষে বুদ্ধদেব বসুর উদ্দ্যোগে কবিতা ভবন থেকে ‘এক পয়সায় একটি’ গ্রন্থমালার অর্ন্তভূক্ত ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থের প্রকাশ।

১৩৫১ শ্রাবন: মহাপৃথিবী কাব্য গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। কার্তিকে ‘পূর্বশা’ পত্রিকায় মাত্র দুই স্তবকের অতি সংক্ষিপ্ত অস্বাক্ষরিত একটি সমালোচনায় ‘মহাপৃথিবী’ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে লেখা হয় ‘রবিন্দ্রনাথের উপর জীবনানন্দ দাশই একমাত্র বাঙ্গালী কবি যার কবিতা সমগ্র জীবনবোধের একটা ইঙ্গিত পাওয়া যায়।’

১৩৫৩ আষাঢ় ২৩: বরিশাল বিএম কলেজ থেকে প্রায় দু’মাসের সবেতনে ছুটি নিয়ে কলকাতায় আসেন। এ বছরের শ্রাবন-ভাদ্রে ১৪টি গান রচনা করেন তিনি। গানগুলোর প্রথম লইন এরকম:

১. আজ বিকেলে ধুসর আলোয়
২. রাতের আধাঁরে নীল নীরব সাগরে
৩. সারা দিন আমি কোথায় ছিলাম
৪. অন্ধকারের ঘুম সাগরের রাতে
৫. আজ সকালের এই পৃথিবীর আলো
৬. আমরা যেন মেঘের আলোর ভিতর থেকে এসে
৭. ঘুমের হাওয়া ঘুমের আলো
৮. দেশ-সময়ের ক্রান্তি রাতে এই পৃথিবী
৯. কাউকে ভালবেসেছিলাম জানি
১০. তোমার সাথে আমার ভালাবাসা
১১. ভোরের বেলায় তুমি আমি-
১২. ধ্বনি পাখির আলো নদীর স্মরনে এসেছি
১৩. তুমি আমার মনে এলে
১৪. মনে পড়ে আমি ছিলাম বেবিলনের রাজা

তারপর এ বছরেরই ভাদ্র মাসে দুমাস ছয়দিন ছুটি কাটানের পর কলকাতা থেকে ফিরে এসে বরিশাল বিএম কলেজে যোগ দেন। কিন্তু কার্তিক মাসে হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ভয়ঙ্কর রূপ ধারন করলে ইংরেজি আগস্ট মাসের শেষ দিকে পুলিশী ঝামেলায় পড়েন তিনি। বিএম কলেজে তার এক ছাত্র তখন একটি থানার দায়িত্বে থাকায় পরে ঝামেলা থেকে রেহাই পান। ২৪ কার্তিক বরিশাল বিএম কলেজে পুঁজাবকাশের পরে কলেজ খুললেও জীবনান্দ যোগদান করেননি। ৭ পৌষ বরিশাল বিএম কলেজে কাউন্সিল সভায় সিদ্বান্ত হয় যে, ইংরেজী ১১ নভেম্বর থেকে পরবর্তী গ্রীষ্ম অবকাশের শেষ দিন পর্যন্ত তার বিনা বেতনে ছুটি মঞ্জুর করা হয়।

১৩১৫৪ বৈশাখঃ বরিশাল থেকে সপরিবারে কলকাতায় চলে যান কবি। জৈষ্ঠ্য মাসে বি.এম.কলেজ থেকে ইস্তাফা দেন।

১৩৬০ আষাঢ় ১: হাওড়া গার্লস কলেজে (বর্তমান নাম বিজয়কৃষ্ণ গার্লস কলেজ) ১১৫ টাকা বেতনের সঙ্গে ১৫ টাকা ভাতায় ইংরেজী বিভাগে অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। এ বছরই তার ‘বনলতা সেন’ ১৯৫৯ বাংলা সনের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে ‘নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্র সাহিত্য সম্মেলন’ কর্তৃক পুরস্কৃত হয়।

১৩৬১ বৈশাখ: “নাভানা” থেকে ‘জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ২৩ ভাদ্র হাওড়া গার্লস কলেজের পরিচালনা সমিতির সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে জীবনানন্দের কর্মকালের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বার্ষিক পচিশ টাকা বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালনের জন্য অতিরিক্ত পঁচিশ টাকা বিশেষ ভাতা দেয়া হবে তাকে। ২৭ আশ্বিন (১৯৫৪ অক্টোবর ১৪ ইং): সন্ধ্যায় দেশপ্রিয় পার্কের কাছে সান্ধ্যভ্রমনের সময় রাস্তা পার হতে গিয়ে ট্রাম দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে শম্ভুনাথ পন্ডিত হাসপাতালে ভর্তি হন। এ দূর্ঘটনায় তার পাঁজর ও উরুদেশের হাড় ভেঙে যায়। ৩০ আশ্বিন (১৯৫৪ অক্টোবর ২২ ইং) শুক্রবার রাত ১১টা ৩৫মিনিটে হাসপাতালেই বিংশ শতাব্দীর এই শ্রেষ্ঠতম কবি জীবনানন্দ দাশের জীবনাবসান হয়।

শুকনো মৌসুমে বর্তমান ধানসিঁড়ি

‘হায় চিল সোনালি ডানায় চিল/এই ভিজে মেঘের দুপুরে তুমি আর কেদোনাকো উড়ে উড়ে /ধানসিড়ির নদীটির পাশে ।’ ঝালকাঠির ধানসিঁড়িটির তীরে সোনালী ডানায় জীবনানন্দের চিলেরা আজও যেন কেঁদে মরে নাব্যতা হারিয়ে নদীটি হারিয়ে যাওয়ার বেদনায়। এক কালের জাহাজ চলা নদীতে আজ যেন নৌকা চলতেও বাঁধা পায়। নাব্যতা হারিয়ে নদীটি আজ সর্বোচ্চ গভীরতায় ৫ ফুট আর চওরায় ৭ ফুটের বেশি নয়। তাই ধান সিদ্ধের বাঁকের কাহিনী আজ আষাঢ়ে গল্পের মত। এভাবেই আরও কিছুদিন কাটলে হয়তো নদীটি ইতিহাস হয়ে যাবে।

বর্ষা মৌসুমে বর্তমান ধানসিঁড়ি নদীতে মেঘবৃষ্টির খেলা

কবি জীবনানন্দ প্রেমি মানুষগুলো আজও দূর-দুরান্ত থেকে ধানসিঁড়ি নদীটি দেখতে এসে বিমর্ষ হৃদয় নিয়ে ফিরে যায়। তবুও ঐতিহ্য রক্ষার লড়াইয়ে কোন মতে প্রবাহমান এই ধানসিঁড়ি নদীতে আজও পড়ন্ত বেলায় সূর্যের খেলা। ভিজে মেঘের দুপুরে সোনালি ডানায় এখনো চিল ওড়ে। আর নদীর দুই ধারে গড়ে ওঠা বেরি বাঁধে সাঁরি সাঁরি গাছের ছায়ায় দীর্ঘ মেঠো পথ তৈরি হয়েছে। যা পর্যটকদের কিছুটা হলেও বনলতা সেনের মত অনেক হাঁটার পর যেন শীতল পরিবেশে ক্লান্তি দূর করে। জীবনানন্দের স্মৃতি রক্ষায় নদীটি খনন করে পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব। আর কবির মামা বাড়ি চড় বাটারা কান্দায় পর্যটকদের জন্য তৈরি করা যায় জীবনানন্দ স্মৃতি জাদুঘর এবং পর্যটকদের জন্য রেষ্ট হাউজ । কিন্তু তা কেবল মাত্র দেশের নীতি নির্ধারকদের পক্ষেই সম্ভব। রূপসী বাংলায় প্রকৃতির নৈসর্গিক কবি জীবনানন্দের স্মৃতি রাক্ষায় দেশের নীতি নির্ধারকদের সুদৃষ্টিতে পড়ে তা সম্ভব হবে কিনা তা লেখকের জানা নেই।

-পলাশ রায়,
লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী।
ইমেইলঃ dailysangbad24@gmail.com

ফেসবুকের মন্তব্য:

10 বিস্তারিত মন্তব্য

  1. niazul islam says:

    excellent report!!!

  2. A. Iqbal says:

    লেখক কে ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি লেখার জন্য।

  3. shonar says:

    chomotkar presetation!

  4. Ekram Hossain says:

    An excellent write up! Enjoyed it very much.

  5. niazul islam says:

    http://www.amadershomoy.com/content/2010/10/23/news0086.htm

    amadersomoy er ai report er songe jibonanondo das er jonmotarikh r jonmosthan er gormil pawa jai? konta sothik?

  6. elora antonia says:

    lekhok ke ojosro dhonnobad.

  7. editor says:

    @niazul islam: প্রাপ্ত তথ্য ও কিছু প্রমানের ভিত্তিতে ধারনা করা হয় যে জীবনানন্দ দাশ এর জন্ম বরিশালে, তাই জোরালো কোনো প্রমান ব্যাতীত তাঁর জন্মস্থান সম্পর্কে ভিন্নমত অমূলক।

  8. Debasish Majumder says:

    Excellent n informative write up.

  9. Debasish Majumder says:

    If possible plz load some pics of the poet’s ancestral residence where he was born his school n college to make the page more attractive.

  10. রূপম গুপ্ত says:

    আমার ঠাকুর্দার আমলে বাংলাদেশ থেকে আমাদের ভারতে আগমন. আমি তাঁকে দেখিনি. আমার জন্মের পূর্বেই তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন. তা সত্ত্বেও আমার মজ্জায বরিশালের প্রতি মোহ যেন ফল্গুধারার মতো প্রবহমান. ইচ্ছে হয় ছুটে যাই, তবু এখনও যেয়ে ওঠা হয়নি. পলাশবাবুর লেখাটি আমাকে সেই জায়গায় শান্তি দিয়েছে, যেখানে আমার অনুভূতি জন্ম নেয়. আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ. এবং জীবনানন্দ দাশগুপ্তের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি যে আমাকে কোন দিক থেকে সাহায্য করলেন তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না.

মন্তব্য করুন